ওসমানীতে সাইফুলের ত্রাসের রাজত্ব! | তদন্ত রিপোর্ট

শনিবার, ১৮ Jul ২০২৬, ১২:০৫ পূর্বাহ্ন

ওসমানীতে সাইফুলের ত্রাসের রাজত্ব!

ওসমানীতে সাইফুলের ত্রাসের রাজত্ব!

Manual5 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত স্টাফদের লাগামহীন অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জিম্মি হয়ে পড়েছেন রোগীরা। হাসপাতালের পরতে পরতে দুর্নীতির বিষবৃক্ষ রোপণ করেছেন ওয়ার্ড মাস্টার সাইফুল মালেক খান। তার ছত্রছায়ায় হাসপাতালের আলোচিত ‘কালো তালিকাভুক্ত’ কর্মচারী থেকে শুরু করে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট বেপরোয়া ঘুষ বাণিজ্যে মেতে উঠেছে। সাইফুলের এই অপকর্মের সহযোগী হিসেবে উঠে এসেছে সাউদিয়া সিকিউরিটি সার্ভিস কোম্পানির রুবেল আহমদ রানা ও বহিষ্কৃত ওয়ার্ডবয় সোহেল আহমদের নাম।

Manual8 Ad Code

পুনর্বাসন ও নিয়োগ বাণিজ্য:
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২২ সালে আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগে বড় ধরনের জালিয়াতির দায়ে ওয়ার্ডবয় সোহেল আহমদকে ‘ব্ল্যাক লিস্টেড’ বা কালো তালিকাভুক্ত করেছিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘ সময় হাসপাতালের বাইরে থাকলেও সম্প্রতি সাউদিয়া সিকিউরিটি সার্ভিসের কর্মচারী রুবেল আহমদ রানার মাধ্যমে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে পুনরায় তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই নিয়োগের নেপথ্য কারিগর হিসেবে কাজ করেছেন ওয়ার্ড মাস্টার সাইফুল মালেক খান। বর্তমানে সাইফুল ও সোহেল জোট বেঁধে বাণিজ্যিক ওয়ার্ডগুলোতে লোক নিয়োগের নামে হাতিয়ে নিচ্ছেন লক্ষ লক্ষ টাকা।

নার্স ও স্টাফদের ওপর ‘মাশোয়ারা’র খড়গ:
হাসপাতালের সাধারণ কর্মচারী ও নার্সদের ওপর সাইফুলের একচ্ছত্র আধিপত্য এখন আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নার্স জানান:
“সাইফুল মালেক খান তার প্রভাব খাটিয়ে বাণিজ্যিক দিক থেকে লাভজনক ওয়ার্ডগুলোতে ডিউটি দেওয়ার বিনিময়ে নার্স ও ওয়ার্ডবয়দের কাছ থেকে মাসোহারা আদায় করেন। তার কথার অবাধ্য হলে প্রশাসনিক হেনস্তার শিকার হতে হয়। “অভিযোগ রয়েছে, বিতর্কিত সোহেলকে গাইনি বিভাগের ওটিতে (OT) কাজ পাইয়ে দিয়েছেন সাইফুল, যেখানে রোগীদের জিম্মি করে টাকা আদায় এবং জীবনরক্ষাকারী ওষুধ চুরির মহোৎসব চলছে।

Manual7 Ad Code

হাড়ের অপারেশন ও ইমপ্ল্যান্ট সিন্ডিকেট:
সাইফুলের দুর্নীতির থাবা এবার বিস্তৃত হয়েছে অর্থোপেডিক বিভাগের দিকেও। হাসপাতালের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, হাড়ের অপারেশনে ব্যবহৃত মূল্যবান ইমপ্ল্যান্ট (ধাতব পাত, স্ক্রু, তার ও বল) অবৈধ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ ও বিক্রির নীল নকশা তৈরি করেছেন এই ওয়ার্ড মাস্টার। সার্জারি ও অর্থোপেডিক ওয়ার্ড থেকে সাপ্তাহিক ও মাসিক ভিত্তিতে অর্থ আদায়ের জন্য তিনি নির্দিষ্ট কর্মচারী নিয়োগ করে রেখেছেন।

দাপুটে আধিপত্য ও লোকচক্ষু অন্তরালের কৌশল:
হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা কর্মী থেকে শুরু করে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নাম ভাঙিয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন সাইফুল। এমনকি অভিযোগ রয়েছে, নিজের অপকর্ম ঢাকতে তিনি কিছু অসাধু গণমাধ্যমকর্মীকে মাসোহারা দিয়ে নিজের পক্ষে ‘গুণগান’ সম্বলিত সংবাদ প্রচার করান। সিলেটে তার এই অবৈধ আয়ের মাধ্যমে বিপুল সম্পদ ও বিলাসবহুল বাড়ি-গাড়ির মালিক হওয়ার বিষয়টি এখন ওপেন সিক্রেট।

Manual2 Ad Code

কর্তৃপক্ষের ভাষ্য:
এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে সত্যতা যাচাই করতে ওয়ার্ড মাস্টার সাইফুল মালেক খানের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সাইফুলের এই ‘দুর্নীতি সাম্রাজ্য’ গুঁড়িয়ে না দিলে ওসমানী মেডিকেলের সেবার মান তলানিতে গিয়ে ঠেকবে।

Manual5 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Add



© All rights reserved © tadantareport.com
Design BY Web WORK BD
ThemesBazar-Jowfhowo
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code
error: Content is protected !!